
মো:কোরবান আলী রিপন, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে যা চলছে, তা স্বাস্থ্যসেবা নয়— বরং এক ভয়াবহ অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) তথ্যমতে, উপজেলায় বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মাত্র ২৬টি। অথচ বাস্তবে অলিগলি, বাজার ও সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাসপাতাল-ক্লিনিক।
প্রশ্ন উঠেছে— এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান কিভাবে চলছে? কারা দিচ্ছে অনুমতি? নাকি প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এই অনিয়ম?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই অনুমোদিত চিকিৎসক, নেই দক্ষ নার্স বা টেকনোলজিস্ট, নেই মানসম্মত যন্ত্রপাতি। তবুও চলছে অপারেশন, ডেলিভারি, টেস্ট ও রোগী ভর্তি। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। ভুল চিকিৎসা, ভুয়া রিপোর্ট ও অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগও ব্যাপক।
স্থানীয়দের অভিযোগ,
নিয়মিত তদারকি ও অভিযান না থাকায় অবৈধ হাসপাতালগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও বছরের পর বছর এসব প্রতিষ্ঠান বহাল তবিয়তে চলা প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।
সচেতন মহলের আশঙ্কা—
এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—
অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা প্রকাশ করতে হবে
তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সিলগালা করতে হবে
লাইসেন্স যাচাই ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে
জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটিকে ব্যবসার হাতিয়ার বানানোর সুযোগ আর দেওয়া যায় না। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
উল্লাপাড়ার মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়।

