বাড়িঅন্যান্যকোম্পানীগঞ্জে মাদক নির্মূলে সমাজিক ঐক্যের আহ্বান ইউপি চেয়ারম্যানের

কোম্পানীগঞ্জে মাদক নির্মূলে সমাজিক ঐক্যের আহ্বান ইউপি চেয়ারম্যানের

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মাদক, ডাকাতি ও চুরি সহ সকল সামাজিক অপরাধ নির্মূলে সমাজিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিন রণিখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ইমাদ।
তিনি গত কয়েক দিন যাবৎ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের সাধারণ মানুষ, প্রবীণ মুরব্বি, যুব সমাজ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, গবাদি পশু চোর, ডাকাতদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ছেড়ে আলোর পথে আশার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্ধকার পথ ছেড়ে আসলে তাদেরকে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমাজিক অপরাধ বন্ধে ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের গৌরীনগর, দরাকুল, সুন্দাউরা গ্রামে অবাধে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের করা হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকল বহিরাগত লোকজন আসছে মাদক সেবন ও ক্রয় করতে। বিভিন্ন অজুহাতে এলাকার সচেতন মহলকে ফাঁকি দিয়েই চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। দিনে-দুপুরেই এই এলাকায় প্রাইভেট কার, জিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল দিয়ে চলছে মাদকের আনাগোনা। খুব সহজেই হাতের কাছে মাদক পাওয়ায় মাদক সেবন ও বিক্রয় সহ অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হচ্ছে তরুণ, যুবক, স্কুল ও কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা নোমান আহমদ জানান, গত কয়েক বছর আগেও আমাদের এলাকায় এত মাদক ব্যবসায়ী ও চোর-ডাকাত ছিল না। কিন্তু বর্তমানে এলাকার প্রতিটি গ্রামেই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী রয়েছে। মাদকের সাথে যুক্ত হয়ে অনেক ভালো মানুষও জড়িত হচ্ছে চুরি-ডাকাতির মতো অসংখ্য অপরাধে।
অনেকেই মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে পরিবারের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে চলে যাচ্ছে বিপদে।
দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল হোসেন জানান, চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ইমাদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থা নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময় পুলিশের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ না হওয়ায় আমাদের পরিষদের সকল সদস্য ও মহিলা সদস্যদের নিয়ে মাদক, চুরি ও ডাকাতি নির্মূলে সামাজিক কমিটি গঠন করেন। দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সকল সদস্যদের স্বাক্ষরিত প্যাড থেকে জানা যায়, এই কমিটি মাদক, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে উঠান বৈঠক, মাদক কারবারিদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় এনে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়াসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করবে। তারপরেও যদি কেউ মাদক, চুরি ও ডাকাতির সাথে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রুপক চন্দ্র দাস বলেন, শিক্ষার্থী ও যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমে পারিবারিক ভাবে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে মাদকের ছড়াছড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মিলে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই ভালো কাজ। যে কোন ভালো কাজে ছাত্র পরিষদ ও ছাত্রলীগ সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ইমাদ বলেন, দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন মাদকের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা হয়ে উঠছে এটি হতে দেওয়া হবে না। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় বারবার মাদক নির্মূলে জোরালো দাবি জানানোর পরও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আমি গত ২ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদে সকল সদস্যদের নিয়ে একটা রেজুলেশন পাশ করি। সকল সদস্যদের মতামত নিয়ে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারপরও যদি মাদক ব্যবসা, সেবনকারী, চুরি-ডাকাতি না কমে, তাহলে আঞ্চলিকভাবে তাদের বয়কট করা হবে এবং পরিষদ থেকে যা যা করার তা করা হবে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, আমি এই থানায় নতুন এসেছি এসেই সকল অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছি যে কোন ভাবে কোম্পানীগঞ্জকে মাদক মুক্ত করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোন মাদক ব্যবসায়ী কোম্পানীগঞ্জ মাদক ব্যবস্থা করতে পারবে না। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে আদালতে পাঠাচ্ছি। কিন্তু জেল থেকে এসে সে আবার মাদক বিক্রির সাথে জড়িয়ে পড়ে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments