
আল-ইবনুন নাফিস,দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) নিজস্ব প্রতিনিধি:
‘‘বাস্তবিক যেমন আত্মাবিহীন দেহ মৃত, তেমন কর্মবিহীন বিশ্বাসও মৃত’’—এই আধ্যাত্মিক আহ্বানকে সামনে রেখে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শুরু হয়েছে গারো সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় মিলনমেলা। উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রাম বিজয়পুরে গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন (জিবিসি)-এর ১২৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে।
শনিবার বিকেলে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন পাস্টার আশীষ কুমার সাংমা। প্রার্থনা শেষে সীমান্তঘেঁষা এই জনপদে নামে উৎসবের ঢল। বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা গারো শিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান ও সংকীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বোর্ড ও সোসাইটির প্রধানরা বক্তব্য রাখেন। ভক্তবৃন্দের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বাণী ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন পাস্টার পুলিন রাংসা, ডিকনেস ধিজারসন চাম্ভুগং, পাস্টার সমীরণ রেমা, পাস্টার মলয় রংমা, পাস্টার অমূল্য দাওয়া এবং ডিকনেস আর্নিশ মান্দা প্রমুখ।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত খ্রিস্টধর্মাবলম্বী ভক্ত সমবেত হয়েছেন। প্রতিদিনের কর্মসূচিতে রয়েছে দ্বারোদঘাটন, অভ্যর্থনা, বিশেষ প্রার্থনা, প্রতিবেদন পাঠ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এছাড়া সংগঠনের বার্ষিক হিসাব-নিকাশ ও আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণেও চলছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
আগামী রবিবার সমাপনী দিনে রয়েছে বিশেষ সব আয়োজন। এর মধ্যে অবগাহন স্নান ও দীক্ষা প্রদান, ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ, অভিষেক অনুষ্ঠান এবং প্রভুর ভোজগ্রহণ অন্যতম। পরিশেষে নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে পর্দা নামবে ১২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বার্ষিক সভার।
প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার মিশেলে বিজয়পুর এখন গারো সম্প্রদায়ের মিলনতীর্থে পরিণত হয়েছে।

