বাড়িএক্সক্লুসিভ নিউজধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ফসল রক্ষায় বিকল্প বাঁধ নির্মাণ, বাঁধ চুইয়ে...

ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ফসল রক্ষায় বিকল্প বাঁধ নির্মাণ, বাঁধ চুইয়ে চুইয়ে হাওরে ঢুকছে পানি, ঝুঁকিতে ১২০০ হেক্টর বোরো জমি

ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ফসল রক্ষায় বিকল্প বাঁধ নির্মাণ, বাঁধ চুইয়ে চুইয়ে হাওরে ঢুকছে পানি, ঝুঁকিতে ১২০০ হেক্টর বোরো জমি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের অবশিষ্ট বোরো ফসল রক্ষায় উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের পেছন হতে কাউনাই নদীর পাড় পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ৫কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি বিকল্প বাঁধ। কিন্তু গত মঙ্গলবার (১৯এপ্রিল) হতে বাঁধের ঘোড়া চক্কর নামক স্থানের বাঁধের একটি অংশের নীচ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি চন্দ্র সোনার থাল হাওরে পানি ঢুকছে। এ অবস্থায় হাওরের ১হাজার ২০০হেক্টর বোরো জমির আধা পাকা ধান নিয়ে কৃষকেরা আতঙ্কে রয়েছেন। হাওরের ফসলহানি ঠেকাতে বাঁধ রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্ঠা চলছে।

উপজেলা প্রশাসন, এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরে এবার ২হাজার ৯৭০হেক্টর বোরো জমিতে ধানের আবাদ করা হয়। উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে হাওরের আতওায় থাকা ডোবাইল ফসল রক্ষা বাঁধটি গত ৫এপ্রিল বিকেলে ভেঙ্গে যায়। এতে ডোবাইল হাওরের ১৮৫হেক্টর বোরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়। ওই হাওরের অবশিষ্ঠ জমির বোরো ধান ফসল ডুরিব হাত হতে রক্ষায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের নির্দেশে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের পেছন হতে শুরু করে কাউনাই নদীর পাড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদদের ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন কে মৌখিক ভাবে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

গত ৫এপ্রিল সন্ধ্যার পর হতে ইউপি চেয়ারম্যান সেখানে লোকজন নিয়োজিত করে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বাঁধ নির্মাণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার সকাল হতে বাঁধের ঘোড়া চক্কর নামক স্থানের বাঁধের নীচ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে হাওরে পানি ঢুকছে। এ অবস্থায় হাওরের বোরো জমির আধা পাকা ধান নিয়ে কৃষকেরা আতঙ্কে রয়েছেন।

উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের কৃষক শাহীন খান বলেন, চন্দ্র সোনার থাল হাওরের আওতায় থাকা ধারাম হাওরে আমাদের দুই হাল (২৪কিয়ার) বোরো জমি রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল হতে বাঁধের একটি স্থান দিয়ে হাওরে চুইয়ে চুইয়ে পানি চন্দ্র সোনার থাল হাওরে ঢুকছে। এ অবস্থায় হাওরের থাকা আমার বোরো জমির আধা পাক ধান নিয়ে বিপাকে আছি। কখন কি হয়ে যায় সেই চিন্তায় কয়দিন ধরে ঘুমুতে পারছিনা।

উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ( ইউপি) চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন বলেন, ৫এপ্রিল সুনামগঞ্জ পাউবোর আওতাধীন থাকা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ডোবাইল ফসল রক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। ওইদিন বাঁধটি পরিদর্শনে আসেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন স্যার। এ সময় ওই হাওরের অবশিষ্ট জমির ধান রক্ষায় বিকল্প বাঁধটি নির্মাণের জন্য তিনি আমাকে নির্দেশ দেন। ওই দিনই সন্ধ্যার পর হতে শ্রমিক নিয়োজিত করে ফসল রক্ষায় বাঁধের কাজ শুরু করি। বাঁধের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। তবে বাঁধের একটি স্থান দিয়ে গত ৩দিন ধরে চুইয়ে চুইয়ে হাওরে পানি ঢুকছে। বুধবার হতে বাঁধে ৬০জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। জিও ব্যাগ ভর্তি মাটি ফেলে বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। ডিসি স্যারের নির্দেশ বাঁধের কাজ করছি।

তিনি আরও জানান, ডিসি স্যার বলেন যে ভাবেই হোক বাঁধ দিয়ে হাওরের বোরো ফসল রক্ষা করতে হবে। যতটাকা খরচ হয় তিনি দেবেন বলে আমাকে আশ্বাস করেছেন। তাই দিনরাত বাঁধে উপস্থিত থেকে নিজের টাকা খরচ করে বাঁধের কাজ করে যাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ২হাজার ৯৭০হেক্টর জমির মধ্যে ডোবাইল ফসল রক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে ১৮৫হেক্টর বোরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। পুরোদমে ধান কাটা চলছে। হাওরে ১হাজার ২০০হেক্টর জমির ধান অবশিষ্ঠ রয়েছে। উপজেলায় ৩১হাজার ৮৫০হেক্টর বোরো জমির মধ্যে বুধবার পর্যন্ত ১৩হাজার ২১৪হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মুনতাসির হাসান বলেন, ডিসি স্যারের মৌখিক নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন নিরলস ভাবে বাঁধের কাজটি করাছেন। বাঁধের কাজে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments