
শেখ শহীদ আহমেদ, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জে কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পেঁপে চাষ। অল্প খরচে অধিক লাভ এবং বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় অনেক কৃষক ঝুঁকেছেন পেঁপে চাষে। হাইব্রিড জাতের পেঁপে সারা বছর চাষ করা যায়, ফলে কৃষকের কাছে এখন পেঁপে চাষ বাড়তি আয়ে উৎস হয়ে উঠেছে। উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে এখন সবুজ পেঁপে গাছ। কেউ ফল তুলছেন, কেউ করছেন গাছের পরিচর্যা , আবার কেউ লাগাচ্ছেন নতুন চারা। কৃষি কর্মকর্তারা জানান উচ্চফলনশীল জাত সহজে পাওয়া যাচ্ছে। এতে ফলন দ্রুত হয়। খরচ কম পড়ে, লাভ বেশি হয়। এক সময় পেঁপে শুধু মৌসুমী ফল হিসেবে জনপ্রিয় থাকলেও এখন সবজি হিসেবে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।
আগে শুধু বাড়ির আঙিনায় পেঁপে গাছ লাগানো হলেও এখন তা বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।
প্রতিবছর চাষের জমির পরিমাণ বাড়ছে।
জেলার সব থেকে বেশি পেঁপে চাষ হচ্ছে সিংগাইর উপজেলায়।
চর আজিমপুর গ্রামের শরীফ মিয়া জানান, তিন বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। তিনি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
গোবিন্দ গ্রামের সালাউদ্দিন মিয়া জানান, ছয় বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন প্রথম ফল থেকে এরই মধ্যে তিন লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন।
কাশিমপুর, শায়েস্তা ও তাদেবপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায় , আড়তে বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করে থাকেন। বিক্রিও হয় বেশ ভালই ।পথচারীরা পাকা ও কাঁচা নানা জাতের পেঁপে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন । উৎপাদন বাড়ায় উপকার পাচ্ছেন ভোক্তারাও। দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় খুশি ক্রেতারা। বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে চাষিরা ফল তুলছেন, নতুন চারাও লাগাচ্ছেন। একটি গাছের নিচেই পরবর্তী প্রজন্মের গাছলাগানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ মৌসুমে প্রায় ৯০০হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার টন ফল। তিনি বলেন, চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষন দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পরিদর্শন করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, সিঙ্গাইরের মাটি পেঁপে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় উৎপাদন হচ্ছে বহুগুণ বেশি।
এখানকার পেঁপের স্বাদেই আলাদা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের নানা জায়গায় যাচ্ছে সিঙ্গাইরের পেঁপে।

