
হাফেজ মুফতি শাব্বীর আহমদ শিবলী নোমানী
আশুরার (১০ই মহররম) দিনে রোজা রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতের কাজ, যা বিগত এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেয় বলে আশা করা হয়। এছাড়া এই দিনে দান-সদকা করা, পরিবারের জন্য খরচ করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। অন্যদিকে, মাতম, মর্সিয়া, মিলাদ, মিছিল, আতশবাজি, বিশেষ খাবার রান্না করা বা বিশেষ নামাজ, দোয়া-দরুদ বা আমল করা বর্জনীয়, কারণ এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
আশুরার ফজিলত:
আশুরার করণীয়-
(১)রোজা রাখা:
আশুরার দিন রোজা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই রোজার মাধ্যমে আল্লাহ বিগত বছরের সগিরা গুনাহ মাফ করে দেবেন বলে আশা করা যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ ও উৎসাহ দিয়েছেন।
আশুরার রোজা কয়টি?
পবিত্র আশুরার ২টি রোজা রাখতে হবে। এ হিসেবে ৯ মহররমের শনিবার (৫ জুলাই) ও ১০ মহররম রবিবার (৬ জুলাই) অথবা ১০ মহররম রোববার (৬ জুলাই) ও ১১ মহররম সোমবার (৭ জুলাই) ২টি রোজা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পবিত্র আশুরার দিন একটি রোজা এবং এর আগে অথবা পরের দিন একটিসহ মোট ২টি রোজা রাখতে হবে।
আশুরায় রোজা রাখার পাশাপাশি ইহুদিদের থেকে ভিন্নতা বজায় রাখতে ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা দুটি রাখা।
(২)সাদকা ও যাকাত প্রদান:
এই দিনে অভাবীদের সাহায্য করার জন্য সাদকা এবং যাকাত প্রদান করা একটি উপকারী কাজ।
(৩)পরিবারের জন্য খরচ করা:
নিজের পরিবারের জন্য অর্থ ব্যয় করাও এই দিনে একটি পুণ্যময় কাজ।
(৪)আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা:
এই দিনে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-যালিমিন” (তুমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র, আমি অবশ্যই জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম) দু’আটি পাঠ করা বাঞ্ছনীয়।
(৫) বেশি নফল ইবাদত -যেমন তাসবিহ কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির আজকার ইত্যাদি।
আশুরার বর্জনীয়:
মাতম ও শোক প্রকাশ:
আশুরার দিন শোক মিছিলের নামে মাতম, মর্সিয়া, বিশেষ শোক প্রকাশ করা উচিত নয়, যা সমাজে শিরক ও বিদআতের জন্ম দিতে পারে।
বিশেষ আমল ও রীতিনীতি:
এই দিনে বিশেষ নামাজ, বিশেষ দোয়া-দরুদ বা আমল নেই, যা প্রচলিত আছে।
মিছিল ও আতশবাজি:
মিছিল করা, আতশবাজি ফোটানো এবং বিশেষ খাবার রান্না করাও বর্জনীয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।
লিখক গবেষক সাংবাদিক ইসলামীক স্কলারa

