বাড়িঅন্যান্যমিরসরাইয়ে ২০০ বছরের পুরোনো বৈশাখী মেলা বন্ধ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

মিরসরাইয়ে ২০০ বছরের পুরোনো বৈশাখী মেলা বন্ধ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় নিরাপত্তার অজুহাতে ২০০ বছরের পুরোনো বৈশাখী মেলা (গড়িয়া মেলা) বন্ধ করে দিয়েছেন হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া।
১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেলাটি একক সিদ্ধান্তে বন্ধ করেন তিনি।
মেলা বন্ধের জন্য চেয়ারম্যান নিরাপত্তার অজুহাত দেখালেও পুলিশ জানিয়েছে, মেলাস্থলে নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে, এমন তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তাছাড়া মেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একটি দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
পূর্বঘোষণা ছাড়াই মেলা বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। এতে মালপত্র নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরদূরান্ত হতে আসা ব্যবসায়ীরাও।
মেলার আয়োজনে যুক্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় খীল হিঙ্গুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২০০ বছর ধরে পয়লা বৈশাখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে একটি বৈশাখী মেলার আয়োজন হয়ে আসছিল। স্থানীয় লোকজনের আয়োজনে এক দিনের মেলায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত হতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। করোনার কারণে গত দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবছর আবার মেলা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় মাঠে দোকানিরা যখন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসছিল, তখন হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া এসে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে মেলা বসাতে নিষেধ করেন। চেয়ারম্যানের বাধা পেয়ে মেলায় পণ্য বিক্রি করতে আসা প্রায় ১০০ দোকানি মালপত্র নিয়ে ফিরে যান।
মেলা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের একজন সঞ্জয় মজুমদার জানান, চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো কমিটি বা কারও অনুমতি ছাড়াই ২০০ বছর ধরে চলে আসা বৈশাখী মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এবার অনুমতি না নেওয়ার কথা বলে মেলার দিন সকালে এসে চেয়ারম্যান মেলা বন্ধের নির্দেশে দেন। যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হওয়া মেলা বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষ হতাশ হয়েছে।
উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন হতে মেলায় খেলনা সামগ্রী বিক্রি করতে এসেছিলেন মো. আবদুল হালিম। তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েক বছর ধরে এই মেলায় এসে খেলনা সামগ্রী বিক্রি করেছি। লাভের আশায় এবারও এসেছিলাম। কিন্তু পূর্বঘোষণা ছাড়াই মেলা বন্ধ করে দেওয়ায় আমার বড় ক্ষতি হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী মেলাটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে হিঙ্গুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া জাতীয় দৈনিককে বলেন, পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেলাটির কোনো কমিটি নেই। মেলা আয়োজনের বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি আমাকে। তাছাড়া মেলার নামে সেখানে মাদকের আড্ডাসহ বিভিন্ন অপকর্ম হয়। পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া মেলা আয়োজন করলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিরাপত্তার কথা ভেবে মেলা আয়োজন করতে নিষেধ করেছি আমি।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুর হোসেন মামুন জাতীয় দৈনিককে বলেন, পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকায় মেলা আয়োজনে নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে, এমন কিছু কেউ জানাননি আমাকে। বরং মেলার আয়োজন হলে সেখানে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমাদের পুলিশ সদস্যের একটি দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। আমাদের পক্ষ হতে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেছেন মেলাটি এবার হবে না। মেলায় নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল আমাদের।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বৈশাখী মেলা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে নিজের সিদ্ধান্তে এমন প্রাচীন একটি মেলা বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সুযোগ চেয়ারম্যানের নেই। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments