
মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর বটতলী এলাকায় সড়ক চার লেন প্রসস্থ করার পরও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ। বরং প্রত্যাশা ছিল—সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় যানজট কমবে, ফুটপাত দখলমুক্ত হবে এবং সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। প্রতিদিনই প্রশস্ত সড়কের ওপর বসছে কাঁচাবাজার, আর অযথা দাঁড়িয়ে থাকে মিনিবাস, সিএনজি অটোরিক্সা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানগাড়ি। ফলে নতুন করে তৈরি হওয়া সড়কও প্রায় সময় যানজটে অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন ও বিভিন্ন মার্কেট। এসব স্থাপনা থেকে মোটা অংকের সেলামি ও ভাড়া আদায় করছেন দখলদাররা। অথচ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীসাধারণ।
অন্যদিকে সরকার নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন হাট-বাজার নিলামের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে থাকে। খাস জায়গায় প্রতিষ্ঠিত বাজারগুলো সাধারণত এই নিলাম প্রক্রিয়ার আওতায় থাকে। বটতলী কাঁচাবাজারও সেই নিয়মে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বাজারের খাস জায়গা দখল করে অনেকেই যেন নিজস্ব জমিদারি কায়েম করেছেন। দোকানদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের সেলামি ও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইজারাদারদের কাছেও তাদের নিয়মিত ইজারা দিতে হচ্ছে, ফলে দ্বৈত আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ইজারাদাররা শুধু কাঁচাবাজারেই সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো বটতলী স্টেশন এলাকার ফুটপাত থেকেও ইজারা আদায় করছেন। অথচ এসব জায়গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাভুক্ত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ইজারাদারদের এখতিয়ার আসলে কোথায় শেষ?
সম্প্রতি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমিরাবাদ বটতলী কাঁচাবাজারই কেবল ইজারাদারের আওতাধীন। এর বাইরে মহাসড়ক সংলগ্ন ফুটপাত বা ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইজারা আদায় করা সম্পূর্ণ অবৈধ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বটতলী এলাকার যানজট ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা দখলমুক্ত করা, ফুটপাত অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করা এবং ইজারা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সড়ক প্রশস্ত করেও জনদুর্ভোগ কমবে না।

