
সিলেটের জৈন্তাপুরে মধ্য যুগিয় কায়দায় গৃহবধু কে নির্যাতন ও শিকল দিয়ে ধেঁধে রাখার সংবাদ পেয়ে পুলিশ গৃহ বধুকে উদ্ধার করে ৷
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে যানাযায়, ৬ মে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলা ফতেপুর ইউপির শিকার খা গ্রামের মুজাহীদ আলীর স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৩৫) কে টাকা দেওয়ার দাবীতে অমানুষিক নির্যাতন চালায় নির্যাতন চলে ইফতারির আগ মুহুত্ব পর্যন্ত৷ নির্যাতনে কুলসুমা পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য লোহার শিকল দিয়ে হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে বন্ধি করে রাখে কুলসুমার ভাসুরের জমশেদ আলী (৪০), দেবর দেলোয়ার আহমদ(২৮), ননদ বরহুনা বেগম,(৩৮) ননদ হরুনা বেগম (৩৫) এবং শশুর শাশুড়ি সবাই মিলে লোহার শিকল দিয়ে বোঁধে ঘরের মধ্যে বন্দি করে ৷ এলাকাবাসী আরও জানান ভিকটিম কুলসুমার স্বামী একজন মানসিক রোগী পেশায় একজন সিএনজি আটে রিক্সা চালক ৷ তিনি বছরের ৬মাস সুস্থ থাকেন ৷ সুস্থ অবস্থায় সিএনজি অটোরিক্সা চালিয়ে যাহা রোজগার করেন তার একটা অংশ কুলসুমা বেগম সঞ্চয় (জমা) করে রাখেন ৷ তিনি অসুস্ত হয়ে পড়লে সঞ্চয় রাখা টাকা হতে স্বামীর চিকিৎসা ও পরিবারের খরচাদি চালান ৷ এছাড়া স্বামী সুস্থ্য অবস্থায় থাকাকালে তার পরিবারকে তার রোজগার হতে টাকা পয়সা দিতেন ৷ কিন্তু কুলসুমার স্বামীর পারিবারের সদস্যরা তাদেরকে টাকা দিতে চাপ সৃষ্টি করে ৷ কুলসুমা টাকা না দিলে সকলে মিলে দুপুর ১টা হতে অমানুষিক নির্যাতন করে৷ একপর্যায় কুলসুমাকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে ৷ খরব পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশের একটি টিম লোহার শিকল বাঁধা অবস্থায় কুলসুমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে ৷ ভিকটিম বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে ৷
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম দস্তগির আহমদ জানান, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে একটি টিম পাটিয়ে ভিকটিমকে লোহার শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে ৷ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে ৷