বাড়িবাংলাদেশেবরিশাল বিভাগমনপুরার জনতা ঘাটে খাস  কালেকশন এর নামে চলছে চাঁদাবাজি।

মনপুরার জনতা ঘাটে খাস  কালেকশন এর নামে চলছে চাঁদাবাজি।

মো:বনি আমিন। মনপুরা (উপজেলা)নিজস্ব প্রতিনিধি।

প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে, ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি। তবে ভোলা জেলা মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জনতা ঘাটের যাত্রীদের পারাপারে দেখা গেল বাজনার চেয়ে খাজনাই বেশি।

এই ঘাটে লঞ্চে করে  ঘাট পার হতে প্রত্যেক যাত্রীকে ১০০ টাকা ভাড়া আর ঘাট খাজনা ১০ টাকা মিলে মোট ১১০ টাকা দিতে হয়। একই ঘাটে যাত্রী প্রতি স্পিডবোট ভাড়া ২৫০ টাকা ও ঘাট খাজনা ১০ টাকা মিলে আদায় হচ্ছে ২৬০ টাকা। অনেক সময় যাত্রীদের ইমারজেন্সি  পারাপারে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪/৫ গুন স্পিডবোট গুলো  বেশি হারে ভাড়া আদায় হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে । ঘাটের দায়িত্বে থাকা লোকজন মনগড়া হারে ঘাট খাজনা  আদায়ের ফলে নাজেহাল অবস্থা যাত্রীদের।

জনতা ঘাট এলাকার স্থানীয় লোকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন,  জনতা লঞ্চ ঘাটের ইজারাদাররা টিকেট ছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা আদায় করছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় ঘাটের লোকজন যাত্রীদের মারধর করে। নারী যাত্রীদের গায়ে হাত তোলার মত ঘটনা ঘটেছে গত ২ তারিখ বুধবারে  । ঘটনার ভিডিও তোলায় প্রত্যেক যাত্রীকে জিম্মি করে ভিডিও ডিলেট করতে বাধ্য করে ঘাট টিকেটের দায়িত্বে থাকা জাকির,হোসেন,শামিম। এর পর হোসেন স্থানীয় ক্যাডারদের কে ডেকে এনে যাত্রীদের উপর  হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি খুবই ভয়ংকর । যাত্রীদের জিম্মি করে এই ধরণের চাঁদাবাজি চলছে নিয়মিত।

কোড়ালিয়া বাজারের একাদিক ব্যাবসায়ী ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, আমাদের সাথে জুলুম হচ্ছে ১০ কেজি ওজনের একটি কাটুনের ঘাট খাজনা নেয় ১০ টাকা এবং একটি  বস্তার ঘাট খাজনা নেয় ৫০ টাকা। যেখানে কাটুন নেওয়ার কথা ২-৩ টাকা এবং বস্তার খাজনা নেওয়ার কথা ২০ টাকা। এলাকার প্রভাবশালীরা ঘাটের দায়িত্বে থাকার কারণে ভয়ে কোন ব্যবসায়ী কিছু বলে না।

সাবেক ঘাট ইজারা দার আরবআলী যানায়, ৫ আগষ্টের পর এই ঘাটটি মনপুরা তসিল  অফিসের আওতায় রাখা হয়েছে। ঘাটে যদি কোনকিছু হয়ে থাকে তাহলে সেটা ভূমি অফিস ভালো বলতে পারবে।

মনপুরা  তসিল  অফিসের তসিলদার রুবেল বলেন, জনতা ঘাটে ঘটে যাওয়া বিগত দুইদিন আগের অনাকাঙ্ক্ষিত  গঠনা আমার জানা নেই। এই ঘাটটি চৈত্র  পর্যন্ত সিরাজ পলবান ও জাকিরকে দেওয়া হয়েছে। 

সিরাজ পলবান বরিশাল প্রতিদিন কে বলেন প্রথমে আমরা ডিসি অফিস থেকে ঘাট টি আনি তারপর ইউএনও পাঠান সাইদুর রহমান  ঘাট টিকে আমাদের দুই গ্রুপের মধ্যে খাস কালেকশনের জন্য  এক মাস করে ভাগ করে দেয়। তাই গত মাসে ঘাট আমার ছিলো  এই মাসে ঘাট আমার না এই মাসে ঘাট হচ্ছে  জাকিরের। তিনি আরো বলেন জাকির, হোসেন, শামীম  তাহারা সবসময় মানুষের সাথে জুলুম করে টাকা আদায় করে। তিনি আরো বলেন এই ঘাট টি যেহেতু এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি তাই ঘাটের কোন টিকেট নেই তাই আমরা টিকেট ছাড়া ১০ টাকা করে উত্তলন করি।

জাকির হোসেন বলেন, বুধবার সকাল ৯ টার দিকে মনপুরা থেকে ৩০ জনের বিয়ের যাত্রী চরফ্যাশন যাচ্ছিল জনতা ঘাট দিয়ে। সেই সময় ঘাটের টাকা চাইলে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে । এবং আমার গায়ে হাত দেয় আমরা কিছুই করিনি। আমরা প্রতি মাসে ঘাটে খাস কালেকশন করে ২০ হাজার টাকা করে তসিলদার কে দেই।

জনৈক যাত্রী আলমগীর  (৫০) বলেন,  এখন এই ঘাট টি যাদের দায়িত্বে  আছে তারা  এলাকার প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আপন খেয়ালে যাত্রী প্রতি দশ টাকা করে  আদায় করছেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments