
সঞ্জয় চন্দ্র দাস,তিতাস(কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ক্বারী আজগর আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত (১২) এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) গৌরীপুর ফাঁড়ির পুলিশ ভূলিরপাড় গ্রামের একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
নুসরাতকে মাত্র ৪ দিন আগে মাদ্রাসাটিতে ভর্তি করিয়েছিল তার পরিবার। নুসরাত তিতাস উপজেলার হায়দনকান্দি গ্রামের রবিউল মিয়ার সন্তান। গত ১৯ এপ্রিল এই আবাসিক মাদ্রাসাটিতে ৪৫০০ টাকা দিয়ে ভর্তি করানো হয় তাকে।
উক্ত ফাঁড়ির এসআই মো. ফারুক হোসেন জানান, ভর্তির চারদিন পর আজ সকাল ৭টায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মেয়েটির বাবা মাকে জরুরি ভিত্তিতে মাদ্রাসায় আসতে বলে। তারা মাদ্রাসায় পৌঁছালে নুসরাত আত্মহত্যা করে মারা গেছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষকদের বরাত দিয়ে এসআই ফারুক জানান, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে কোন এক সময় নুসরাত গেইটের চাবি নিয়ে গোপনে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায় বলে শিক্ষকরা জানান। মৃত নুসরাতের ভাই ফজলে রাব্বিও একই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। ওই রাতে সেও এই মাদ্রাসায় ছিল।
এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী জানান, ঘটনার দিন তিনি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, তাই তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
অন্যদিকে মাদ্রাসায় ছাত্রীদের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষক সোনিয়া ও তাহমিদাও নুসরাতের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় নুসরাতের মা মোরশেদা বেগম জ্ঞান হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তার দাবি, নুসরাত আত্মহত্যা করেনি, তার হাতে-পায়ে দাগ রয়েছে এবং নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে, তাকে অত্যাচার করে হত্যা করা হয়েছে।
লাশ কুমিল্লায় মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।